স্বাগতম

মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা |পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই!

সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

জেনে নিন আমদানি-রপ্তানির জন্য কিভাবে এল সি খুলতে হয়(How To Open L/C For Export-Import)

জেনে নিন আমদানি-রপ্তানির জন্য কিভাবে এল সি খুলতে হয়(How To Open L/C For Export-Import)

লেটার অব ক্রেডিট বা এল সিঃ
রপ্তানিকারকের রপ্তানি করা পণ্যের মুল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তার লক্ষে আমদানিকারকের পক্ষ নিয়ে ব্যংক যে প্রত্যয়ন পত্র দেয় তাকেই এল সি বলা হয় । ব্যাংক আমদানিকারকের পক্ষে রপ্তানিকারককে এই মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করে যে , আমদানিকারক কোন কারনে পণ্যের মূল্য পরিশোদ করতে অস্বীকার করলে উক্ত ব্যাংক রপ্তানিকারককে সেই পণ্যের মূল্য পরিশোদ করবে বা করতে বাধ্য থাকবে । এল সির মাধ্যমে রপ্তানিকারক যেমন তার পণ্যের মুল্য প্রাপ্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হয় তেমনি আমদানীকারক এল সির বিপরিতে ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধাও পায় । ব্যাংকের মাধ্যমে পণ্য প্রাপ্তির পর রপ্তানিকারক মুল্য পরিশোদ করার সুযোগ পায় ।


ব্যাক টু ব্যাক এল সিঃ
প্রয়োজন ও পণ্যের ধরণের বিবেচনায় এল সি পদ্ধতির ভিন্নতা রয়েছে । বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের আমদানী ও রপ্তানির কাজ ব্যাক টু ব্যাক এল সির মাধ্যমে হয় । সহজ কথায় ব্যাক টু ব্যাক এল সি রপ্তানিকারকের অনুকূল পদ্ধতি ।  রপ্তানিকারকের মূলধনের পরিমান যখন কোন একটি পণ্য সরবাহের জন্য যথেষ্ট থাকে নাসে ক্ষেত্রে ব্যাক টু ব্যাক এল সি ইস্যু করা হয় । রপ্তানি পণ্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের জন্য রপ্তানি এলসির সহায়ক জামানত হিসেবে রেখে Advising Bank কে বা ব্রোকারের দেশীয় কোন ব্যাংক পণ্যের মুল-সরবরাহকারীর অনুকূলে যে আর একটি এল সি ইস্যু করে ।

প্রথম এলসির প্রায় সব শর্তাবলী হুবুহু দ্বিতীয় এলসি তে অন্তর্ভুক্ত করা হয় । তবে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড স্কিম(ই ডি এফ এস) এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থায়নের ব্যবস্থা আছে । যাকে At sight back to back L/C বলে । দেশের রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষে রপ্তানি সহায়তা (export incentive) হিসেবে বাংলাদেশ সরকার রপ্তানিকারকদের ই ডি এফ সুবিধা প্রদান করে । 


এই সুবিধার আওতায় রপ্তানিকারক বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে রপ্তানির বিপরীতে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানী করতে পারে । সেক্ষেত্রে আমদানিকারকদের ঋণ গ্রহনের তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে (অনুরোধে ২৭০) ১ % বাড়টি হারে গৃহীত ঋণের টাকা পরিশোদ করতে হয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাক টু ব্যাক এল সির মাধ্যমে পোশাক তৈরির উপকরণাদি সংগ্রহ করে থাকে। রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ মোতাবেক ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলতে হয় । 

জেনে নিন আমদানি-রপ্তানির জন্য কিভাবে এল সি খুলতে হয়(How To Open L/C For Export-Import)


উদাহরন স্বরূপ ভাবা যাক আইভোরি কোস্ট এর কোন ফার্ম  তুলা রপ্তানি করতে আগ্রহী । ভারতীয় কোন সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান বা ব্রোকার বি বাংলাদেশের স্পিনিং কোম্পানি সি সম্পর্কে অবহিত যারা তুলা ক্রয় করতে ইচ্ছুক । কিন্তু সি কোম্পানির কাছে তূলার মূল্যের পুরো টাকা নেই । কোম্পানি  বিক্রি করতে আগ্রহী কিন্তু,  ঝুকি নিতে নিতে নয় ।
     
এ অবস্থায় ব্যাক টু ব্যাক এল সি লেনদেনকে ঝুকিহীন করাতে সাহায্য করবে । সি কোম্পানিব্রোকার বি কে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান(ব্যাংক) এর কাছে যাবে এল সির জন্য । ব্রোকার বি ঐ এল সি কে কাজে লাগিয়ে তার কোন পরিচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে যাবে ২য় এল সি টির জন্য, যাকে কোম্পানি  এর কাছে ইস্যু করার যাবে ।  

কোম্পানি  এর কাছে এলসি পৌঁছানোর সাথে সাথে সে তার তুলা জাহাজীকরণ করবেএই জেনে যে তুলা পৌঁছালে জার্মান ব্যাংক পুরো পেইমেন্ট করবে । এভাবে বাংলাদেশের একটি পোশাক রপ্তানিকারন টেক্সটাইল কোম্পানি ব্যাক টু ব্যাক এল সির দ্বারা কম মূলধন নিয়েও তার উৎপাদন কাজ শুরু করতে পারে ।  

1 টি মন্তব্য:

 

দর্শক সংখ্যা

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ Amitptec6th@gmail.com

সতর্কবার্তা

বিনা অনুমতিতে টেক্সটাইল ম্যানিয়ার - কন্টেন্ট ব্যাবহার করা আইনগত অপরাধ,যেকোন ধরণের কপি পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচারযোগ্য !