স্বাগতম

মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা |পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই!

শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

ফ্যাশন সচেতন ছেলেদের জন্য(For Fashionable Boys)


 যখন পরিবেশে তাপ ও আদ্রতা এক সঙ্গে বিরাজ করে তখন আমরা কি ধরণের পোশাক পরব শুধু সে চিন্তায় সীমাবদ্ধ থাকলেই চলে না বরং ভাবতে হয় কি ধরণের কাপড় দিয়ে পোশাকটি তৈরি হচ্ছে


পলো সার্ট: পলো শার্টের সাথে আমরা কেউ অপরিচিত নই, ছেলেদের পোশাকের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে সাধারণ এটিই মাল্টিপারপাস এবং ভার্সেটাইল এ পোশাকটির উৎপত্তি ইতিহাস কিছুটা ধারণা নির্ভরতবে উনবিংশ শতাব্দী থেকেই এর ব্যাবহার প্রসার লাভ করে । এই শার্টের জনপ্রিয়তার পেছনে একজন মানুষের অবদান ও চেষ্টার কথা না বললেই নয়তিনি হলেন ফ্রেঞ্চ টেনিস লিজেন্ড রেনে লাকস্টপেশায় একজন টেনিস খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক পলো শার্টের মুল ডিজাইনটি কিন্তু তারই করা । 

১৯৩০ সালের আগে ফুল প্যান্টের সাথে হাতা গোটান ফুল শার্ট পরে টেনিস প্লেয়ারদের কোর্টে আসত খেলার ধরণের সাথে অবাস্তবধর্মী এই পোশাক রীতির উপড় সাত বারের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী লাকস্ট নাখোশ ছিলেনপ্রথমত টেনিস খেলার জন্য একটি বাস্তবধর্মী পোশাক প্রচলন করাই ছিল তার উদ্দেশ্য তিনিই প্রথম এ নিয়ম ভঙ্গ করে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন । এ লক্ষে নিজে একটি শার্টের ডিজাইন করেন যাতে ছিল ছোট হাতা ও কলার  পিকে কটন প্রযুক্তির কাপড় দিয়ে তিনি এই শার্ট তৈরি করেনএ কাপড় ছিল একই সাথে মজবুত ও ব্রেথেবল ।

১৯২৬ সালের ইউ এস ওপেনে তিনি এই পলো শার্ট পরে মাঠে নামলেন এবং এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হলেন । খেলায় সুবিধা প্রত্যক্ষ করে অন্য খেলোয়াড়রাও তার এই টি শার্টকে গ্রহণ করলেন


১৯৩৩ সালে খেলা থেকে অবসর নেয়ার পর লাকস্ট তার গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী বন্ধু এন্ড্র গিলিয়ারের সাথে লা-কস্ট টি-শার্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেনএর পরে টেনিস খেলার পোশাকরূপে পলো শার্ট  গ্রহণযোগ্যতা তো পেলই, সাথে সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠল খুব কমফোর্টেবল একটি পোষাক আশির দশকে পলো শার্ট জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছায় । 




লিনেন ফুল শার্টঃ
শরীরকে ঠাণ্ডা রাখার ক্ষমতার জন্য একটি বিখ্যাত ফেব্রিক লিনেন

লিনেন একটি ন্যাচারাল ফেব্রিক ।  খুব পাতলা ও ছোট ছোট ছিদ্র যুক্ত হয় হয় বলে , শরীরে নিয়মিত বাতাস আসা যাওয়া করতে পারে । সাদা রঙের লিনেন তাই গরমে পরার জন্য বেস্ট সুইটেড । তবে এতে খুব তাড়াতাড়ি ভাজ পরে বলে প্রতিবার ধোয়ার পরে একে আইরনিং করা আবশ্যক ।  লিনেন কে মনে করা হয় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন কিছু ফাইবারের একটি  ।


হেনলয়েঃ সাধারণ শার্ট থেকে এই টি শার্ট  কিছু ভিন্ন প্রকৃতির ।অনেকটা ফতুয়ার মত । এটি এসেছে স্পোর্টস ম্যান টি শার্ট থেকে যা পরে একুশ শতকের র‍্যাগড স্টাইলের প্রতীক হয়ে ওঠে । এ শার্টে কোন কলার থাকে না , গোল গলার সাথে ২-৫ টির মত বোতাম থাকে । ৭০ এর দশকে এই শার্টের জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌছায় , তবে সাম্প্রতিক কালের ফ্যাশনে আবারো এতি ফিরে আসছে , জেমস বন্ড সিরিজের নায়ক ড্যানিয়েল ক্রেগ ও জিরাসিক ওয়ার্ল্ড খ্যাত ক্রিজ প্র্যাটের গায়ের পরা হেনলে শার্ট সারা বিশ্বের মানুষের নজর কাড়ে । 

কখনো কখনো এমন হতে পারে গরমের দিনে আপনি হয়ত শুধু টি শার্ট ই পরতে চাচ্ছেনকিন্তু বরাবর একই রকম টি শার্ট পরলে অড লাগবে এমন ভাবছেন  তখন আপনি না হেনলয়ে বেছে নিতে পারেন ।  শর্ট স্লিভ হেনলি দেখতে অনেকটা সাধারণ টি শার্টের মত হলেও গলার দিকে এর প্লাক্ট করা বোতাম একে আরও কমফোর্টেবল করে তোলে । ঠিক পলো ও হাফ হাতা বোতাম ওয়ালা শার্টের মতই এটি সহজে দেহের সাথে ফিট হয় আর ঠিক ঠাক ফিটিং পরিপাটি চেহারার পূর্বশর্ত



ছিনোস প্যান্টঃ যে কাপড় দিয়ে এ প্যান্ট তৈরি হয় তাকে টেক্সটাইলের ভাষায় টুয়াইল বলেবাংলাদেশে যাকে গ্যাবারডিন প্যন্ট নামেই ডাকা হয় । প্রথমত এ প্যান্টের প্রচলন শুরু হয়েছিল ৫০ এর দশকে একটি মিলিটারি পোশাক হিসেবে । তবে সিভিলিয়ান পোশাক হিসেবে এটির প্রচলন শুরু হয় যখন ফিলিপাইনে জয়ী হয়ে আমেরিকান সৈন্য দল এই প্যান্ট পরে বীরদর্পে দেশে ফিরে আসে বিজয়ী সেনাদের পরনে থাকা এই প্যান্ট তরুণ ছেলেদের কাছে সম্মান জনক পোশাক রূপে গৃহীত হয় । তখন এই প্যান্ট শুধু চীনেই তৈরি হত বিধায় এর নাম রাখা হয়েছিল ছিনোস ।  অ্যামেরিকার সবচেয়ে পুরাতন ছেলেদের পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্রোক ব্রাদার ১৯৪২ সালে এই প্যান্টকে বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি করা শুরু করে ।

এই প্যন্ট জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে আরও একটি পরোক্ষ কারন ছিল । তখনকার সময়ে স্কুলে জিন্স প্যান্ট পরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না । বিধায় জিন্সের বিকল্প হিসেবে ছেলেরা ছিনোস কে গ্রহণ করে এজন্য স্কুল পড়ুয়া ছেলেদের মাঝে এর প্রচলন বিস্তার লাভ করে ।
ক্যানভাস স্নিকারের সাথে ম্যাচ করে পরা ছিনোস খুব মার্জিত ক্যাজুয়াল পোশাক এবং গরমের সময়ে জিন্সের তুলনায় বেশি আরামদায়ক । এছাড়া বেঞ্চ বা বারে লাঞ্চ করার সময় এটি ঠিক শর্ট প্যান্টের মতই কমফোর্টেবল  ফিল দেয়



শর্ট স্লিভ ফিটিং শার্টঃ  বর্তমানে শর্ট স্লিভ শার্ট বা হাফ হাতা শার্টের ব্যাবহার কম । তবে গরমে জন্য কিন্তু এই শার্ট টিকে সবচেয়ে উপযুক্ত ধরা হয়  । স্লিম ফিট ভিন্টেজ ওয়াশ জিন্সের সাথে বোতাম এটাছ একটি প্ল্যাইন শার্ট ক্লাসিক স্মার্ট লুক তৈরি করে । যা খুব স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের থেকে আপনাকে আলাদা করে দেখায় । তবে অল্প বয়সী ছেলেদের জন্য ব্রাইট কালারের স্ট্রাইপ করা শার্ট ভাল মানায়অন্যদিকে মধ্য বয়সীদের জন্য সাদা বা সফট কালারের শার্ট সুইট করে ।    



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 

দর্শক সংখ্যা

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ Amitptec6th@gmail.com

সতর্কবার্তা

বিনা অনুমতিতে টেক্সটাইল ম্যানিয়ার - কন্টেন্ট ব্যাবহার করা আইনগত অপরাধ,যেকোন ধরণের কপি পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচারযোগ্য !