স্বাগতম

মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা |পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই!

শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬

রাডারের চিত্র কিভাবে আবহাওয়ার পুর্ভাবাস দেয় (How Does RADAR Predict About Weather )



আবহাওয়ার উপড় মানুষের স্বাস্থ্য ও ভাল থাকা গভীরভাবে নির্ভরশীল । প্রত্যক্ষ করা গেছে নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা,ব্রংকাইটিজ ইত্যাদির রোগের প্রাদুর্ভাবের ও জন্মহার পরিবর্তনের উপড় কোন অঞ্চলের আবহাওয়া তথা জলবায়ুর একটা বিশাল প্রভাব রয়েছে ।



রাডার শব্দটিকে ভাঙলে পাওয়া যায় RADAR.যার পূর্ণ অর্থ Radio Detecting And Ranging অর্থাৎ যে যন্ত্র রেডিও তরঙ্গর শনাক্ত ও বিন্যাস করে  নাম যা ইঙ্গিত করে রাডারের কাজ ঠিক তাই,অর্থাৎ রাডার কাজ করে প্রধানত রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে

রাডার তারবিহীন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের মতই তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ পাঠায় ছোট ছোট পালসের আকারে পাঠানো সংকেত  দূরবর্তী কোন বস্তুতে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় রাডারে ফিরে এলে, আংশিক কিছু শক্তি রাডারে অবক্ষিপ্ত হয়

ঘটনাটি ঠিক শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার মতই যদি আমরা কখনো কুয়োর মুখে চিৎকার করি, তাহলে বদ্ধ কুয়োর পানির তলে সে শব্দের প্রতিফলন প্রতিধ্বনির রূপে আমাদের কানে ফিরে আসে ঠিক একই ভাবে তড়িৎ চৌম্বুক তরঙ্গ সংকেতের পালস বৃষ্টির কনায় ধাক্কা খেয়ে রাডারে ফিরে আসবে এই ফিরে আসা তরঙ্গ থেকে রাডার বলে দেবে কোথায় বৃষ্টি হয়েছে এবং কতটুকু বৃষ্টি হয়েছে

আসুন দেখা যাক একটি রাডারের কি কি অংশ নিয়ে গঠিত হয়
একটি ট্রান্সমিটার বা প্রেরকযন্ত্র , এটি শক্তির পালস তৈরি করে ।
একটি ট্রান্সমিটার সুইচ বা গ্রাহক বোতাম , এই অংশটি এন্টেনা কে বলে দেয় কখন শক্তি প্রেরন করতে হবে এবং কখন পালসগুলোকে গ্রহণ করতে হবে ।
৩।  এন্টেনা, যা পালসগুলোকে পরিবেশে পাঠা এবং প্রতিফলিত পালস কে গ্রহণ করে ।
৪। একটি গ্রাহক যন্ত্র , যা কিনা গৃহীত সংকেত এর উপস্থিতি বা অস্তিত্বকে সনাক্ত করে । গ্রাহক যন্ত্র এ পর্যায়ে সংকেত কে ভিডিও ফরম্যাট এ রূপান্তরিত করে

এভাবে  গৃহীত সংকেতগুলো একটি ডিস্প্লের মধ্যে প্রদর্শিত হবে ।

রাডারের চিত্র


রাডার থেকে পাওয়া তথ্যের ধরণ সাধারণত দুই ফর্মের এক প্রতিবিম্বন আরেকটি বেগমাত্রিক ।

একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কতটুকু বৃষ্টিপাত হয়েছে তা প্রতিবম্মবন থেকে পাওয়া তথ্য নির্দেশ করে, অপরদিকে বৃষ্টিপাতের গতিবেগ ও গতির দিক পরিমাপ করে বেগমাত্রিক ফর্মের তথ্য । বেশীরভাগ রাডার প্রতিবিম্বন পরিমাপ করতে পারলেও  গতিবেগ পরিমাপ করতে অবশ্যই ড্রপলার রাডারের প্রয়োজন ।

রাডারের কাজের পেছনের বিজ্ঞানঃ


প্রতিবিম্বন বা রিফ্লেক্টিভিটিঃ

রাডার কাজ করে পদার্থ বিজ্ঞানের তরঙ্গ তত্ত্বকে কাজে লাগিয়েজার্মান বিজ্ঞানী Heinrich tertz ১৮৮৭ সালে রেডিও তরঙ্গের বৈশিষ্ট বা চরিত্র নিয়ে গবেষণা করেন তিনি দেখান , কোন অদৃশ্যমান তড়িৎ চৌম্বুক তরঙ্গ তার অনুকূল কোন বৈদ্যুতিক বর্তনী থেকে বিকিরিত বা বিচ্ছুরিত হলে আলোর গতি অর্জন করবে এবং ভ্রমণ পথে একই ভাবে প্রতিফলিত হয়ে চলতে থাকবে

চলতি দশকে এ বৈশিষ্ট গুলোকে ব্যাবহার করা হচ্ছে উচ্চতর পরিবেশে বিভিন্ন প্রতিফলিত স্তরের উচ্চতা নিরূপণের কাজেএজন্যই রাডার থেকে পাওয়া তথ্যকে রিফ্লেক্টিভিটি বা প্রতিবিম্বন ক্রিয়া বলা হয় ।

রাডারের কাজ জানতে হলে ড্রপলার ইফেক্ট জানতে হবে,


অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী ড্রপ্লার ১৮৪২ সালে ড্রপ্লার ইফেক্ট আবিষ্কার করেন । এ থিওরি বা সুত্র অনুযায়ী শ্রোতা ও উৎসের আপেক্ষিক গতির জন্য কম্পাং বা শব্দের তীক্ষ্ণতার আপাত পরিবর্তন ঘটবে

একটি সুব্দর উদাহরণ অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন, অ্যাম্বুলেন্স কাছে আসার সাথে সাথে সাইরেনের শব্দের তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে , কিন্তু আবার দূরে সরে যাওয়ার সাথে সাথে তীক্ষ্ণতা কম হয়ে প্রতিভাত হয় ।  ড্রপলারের তত্ত্ব থেকে আমরা হিসাব করে বের করতে পারি কতটা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স টি চলছে বা স্থান পরিবর্তন করছে , সাইরেনের শব্দের কম্পাংকের স্থান বদলের উপড় নির্ভর করে এই হিসাবটি করা হ

এই সুত্রকে ব্যাবহার করে  ড্রপলার ওয়েদার রাডার রাডারের সামনে বা পেছনের পরিবেশের বৃষ্টিপাতের গতি বের করে দিতে পারে ।  ড্রপ্লার প্রযুক্তি সহায়তা নিয়ে বাতাসের বেগ বের করা সম্ভব কেননা  বাতাসের স্থান পরিবর্তনের সাথে বৃষ্টিপাতের তারতম্য হয়  ।   

 পদ্ধতিগত চিত্র


রাডারের ছবিঃ আবহাওয়া রাডারের ছবি দেখতে সাধারণত ম্যাপের মত হয়, এ ছবি তৈরি হয় রাডারের পার্শ্ববর্তী কোন অঞ্চল থেকে আসা প্রতিফলিত তরঙ্গের কারনে । বৃষ্টিপাতের তীব্রতার উপড় নির্ভর করে ম্যাপের বিভিন্ন অংশ কেমন রঙ ধারণ করবে ।


রাডারের ডিসপ্লের প্রত্যেকটি রঙ ভিন্ন ভিন্ন পালসের শক্তি থেকে সৃষ্ট প্রতিফলিত রশ্নির জন্য সঙ্গতি পূর্ণ রাডারের ভাষায় প্রকাশিত হয় ।  রাডারে ফিরে আসা পালস গুলোর শক্তিমত্তা , বৃষ্টির কতগুলো কনা রয়েছে ও কনাগুলোর আকার কিরুপ তার উপড় নির্ভর করে । এবং কনাগুলো কি অবস্থায় আছে বা কি আকৃতিতে রয়েছে সেটিও প্রকাশ পায় । এ সমস্ত বিষয় ও কারন সম্মন্ধে পূর্ণ ধারণা পাওয়ার পরে মাটিতে পরা বৃষ্টি পাতের মাত্রার কাছাকাছি মান অনুমান করে বের করা হয় । 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 

দর্শক সংখ্যা

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ Amitptec6th@gmail.com

সতর্কবার্তা

বিনা অনুমতিতে টেক্সটাইল ম্যানিয়ার - কন্টেন্ট ব্যাবহার করা আইনগত অপরাধ,যেকোন ধরণের কপি পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচারযোগ্য !