স্বাগতম

মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা |পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই!

মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০১৬

আধুনিক রেইনকোটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-০১(Short History of Modern Raincoat Part-01)

Short History of Modern Raincoat Part-01


এ পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব প্রায় আড়াই লক্ষ বছর পূর্বে। তৎকালীন সময় থেকেই মানুষ তার নতুন নতুন চাহিদার সাথে পরিচিত হচ্ছিল । একটা সময় এসে মানুষ পোশাক হিসেবে গাছের ছাল ও পশুর চামড়া ব্যাবহার করতে শুরু করে, সেই পদক্ষেপ থেকে যাত্রা শুরু করে আজকে মানুষ ব্যাবহার করছে আলো প্রতিক্ষেপী ও বায়োমেট্রিক টি- শার্টের মত সর্বাধুনিক পোশাক । এ সবই মানুষের প্রয়োজন আর উদ্ভাবনী ইচ্ছার ফসল ।



হাজার হাজার বছর পূর্ব থেকেই মানুষ তার প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরণের কাপড় উদ্ভাবন করে আসছে, এর ধারাবাহিকতায় আবিষ্কৃত হয় পানিরোধী পোশাক বা রেইন কোট । ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে অ্যামাজান অঞ্চলের মানুষেরা উদ্ভিজ্জ্ আঠালো পদার্থ দিয়ে পানি বা বৃষ্টিরোধী পোশাক তৈরি করেছিলেন। ষষ্টদশ শতাব্দীতে ইউরোপিয়ান অভিযাত্রীরা যখন প্রথম আমেরিকায় পৌঁছান তখন তারা দেখতে পেলেন সেখানকার অধিবাসীরা অপরিশোধিত রাবার দিয়ে তৈরি পানিরোধী জুতা ও টুপি ব্যাবহার করছে । কিন্তু ইউরোপে পানি রোধী কাপড় তৈরির গবেষণা শুরু হয়েছিল আরও অনেক পরে, অষ্টাদশ শতাব্দীতে ।


১৭৪৮ সালে François Fresneau  প্রথম পানি রোধী কাপড়ের একটি নমুনা তৈরি করেন। স্কটল্যন্ডের বিজ্ঞানী John Syme ১৮১৫ সালে আরও একটি নমুনা তৈরি করেন। ১৮২১ সালে লন্ডনের জি.ফক্স কোম্পানি অ্যাকুয়াটিক নামের একটি রেইন কোট তৈরি করে। অ্যাকুয়াটিক শব্দের অর্থ যে প্রাণী জলে বাস করে বা বেড়ে ওঠে। অ্যাকুয়াটিক তৈরি করতে তারা ব্যাবহার করেছিল মহেইর কেন্দ্রিক টুয়াইল ফেব্রিক যার নাম গ্যাব্রোন ।  


ইতিহাসের প্রথমদিকের তৈরি এসব রেইনকোটের বেশিরভাগেই রাবার ব্যাবহার ছিল মুখ্য বা রাবার কেন্দ্রিক কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কোনটিই সফলতার মুখ দেখতে পায় নি । কারন রেইনকোট তৈরির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল তাকে তাপসহায়ক করা। কিন্তু রাবার এই বিষয়ে কোন ইতিবাচক সমাধান দিতে পারছিল না । তাপমাত্রা বেড়ে গেলে রাবার নরম ও পিচ্ছিল এবং কম তাপমাত্রায় শক্ত ও স্থিতিস্থাপক অবস্থা ধারণ করে। তাই রাবারের বিকল্প খুজে বের করা ছাড়া সামনে কোন সমাধান ছিল না।


সেই সমস্যা সমাধান করতে লেগে গেল উনিশ শতক । তৎকালীন স্কটল্যান্ডের স্থানীয়দের মধ্যে অনেক মানুষ রসায়নের ব্যাবসার সাথে জরিত ছিলেন। তার মধ্যেই একজন ম্যাকিন্টোস, যিনি রাবারের সাথে অন্য একটি রসায়নের মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি তরলের তৈরি করেন যাকে কাপড়ের পৃষ্ঠে তুলি দিয়ে মাখিয়ে  দিলে যে প্রলেপ তৈরি হয় তা পানিকে রোধ করার ক্ষমতা লাভ করে।


গ্যাস শিল্প ছিল উনিশ শতকের একটি নতুন ব্যবসা।  বিভিন্ন প্রয়োজনে পেট্রোলিয়ামকে ক্ষুদ্রাকারে বিশ্লিষ্ট করতে  কয়েল-টার-ন্যাপথা মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার হত । সহজে উবিয়ে যাওয়া এই তৈলজাত তরলটি ছিল একটি হাইড্রোকার্বন মিশ্রণ। ম্যাকিন্টোস একেই ব্যাবহার করতে চাইলেন রাবারের ঘন দ্রবন তৈরির কাজে। সরাসরি রাবারের পরিবর্তে রাবারের প্রলেপ ব্যাবহার করায় খুব সাধারণভাবেই পোশাকগুলো আগের থেকে হালকা হয়ে গেল ।  


১৮২৩ সালে ম্যাকিন্টোস তার উদ্ভাবিত এই পদ্ধতির প্যটেন্ট অর্জন করেন। তবে রাবার ন্যাপথার তরল কাপড়ের সব জায়গায় সমানভাবে পৌছাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে অনেক সময় লাগত। প্যাটেন্ট পাওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয় ওয়াটার প্রুভ পোশাকের উৎপাদন । এই রেইনকোটের প্রথম কাস্টমার ছিল ব্রিটিশ মিলিটারি ফোর্স। যেকারণে আবিষ্কারের সাথে সাথেই উৎপাদনকাজ বেশ বড় আকৃতি ধারণ করে। এ আবিষ্কারটি ছিল রাবার ব্যাবহারের পথে একটি ফলপ্রসূ মাইলফলক,যা রাবারকে আরও নতুন নতুন কাজে ব্যাবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে যেমনঃগাড়ীর টাইয়ার। 
http://www.madehow.com/
http://www.esimone.ro/
http://wikipedia.com/
http://anikabozic.com/


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 

দর্শক সংখ্যা

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ Amitptec6th@gmail.com

সতর্কবার্তা

বিনা অনুমতিতে টেক্সটাইল ম্যানিয়ার - কন্টেন্ট ব্যাবহার করা আইনগত অপরাধ,যেকোন ধরণের কপি পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচারযোগ্য !