স্বাগতম

মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা |পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই!

সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৫

স্ট্রিং তত্ত্ব কিভাবে টাইম ট্র্যাভেলকে বাস্তবে আনতে পারে(How It Becomes Possible To Make Time Travel By Using String Theory)


আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব বিগ ব্যাঙ্ক এর ধারনার জনক কিন্তু বিগব্যাং কিভাবে ঘটল বা তার আগে কি ছিল সেই ঘটনা প্রবাহকে আপেক্ষিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে পারে নি শুধু তাই নয় ব্ল্যাকহোলের ও মহাবিশ্বের কেন্দ্রস্থল সম্পর্কে এখনও কোন শক্তিশালী ধারণা জন্মায় নি কোন বস্তুর বেগ আলোর বেগের কাছাকাছি পৌঁছালে নিউটনের সুত্র দিয়ে তাকে আর ব্যাখ্যা করা যায় না ,  আপেক্ষিক তত্ত্ব আলোর বেগে চলমান বস্তু সম্পর্কে ধারণা দিতে পারলেও সিঙ্গুলারিটি বা অদ্বৈত বিন্দু মানে যা বিগ ব্যাঙ্গ নামে পরিচিত তার পূর্বের ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে অকার্যকর হয়ে পরে। তার মানে আমাদের পরিচিত সুত্র গুলো দিয়ে আমরা জানতে পারি যে ১৫০০ কোটি বছর আগে ঘনসন্নিবিষ্ট ও গাটবদ্ধ হয়ে থাকা গ্যালাক্সিগুলো বিস্ফোরিত হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পরতে শুরু করে এবং ঐ বিস্ফোরণের পরমুহূর্ত থেকেই দেশ কাল বা সময়ের উৎপত্তি হয় ।  


কাজেই এই বিস্ফোরণের আগে কি ছিল এবং কিভাবে এই বিস্ফোরণ প্রভাবিত হল এইসব প্রশ্নের উত্তর জানা সম্ভব হয় না । এই প্রশ্ন প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন হয়ে পরে । কারন দৈর্ঘ্য,প্রস্থ,উচ্চতার সাথে সময়কে মিলিয়ে যে চার মাত্রার জগত কে কেন্দ্র করে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত  তার সাহায্যে মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাঙ্গের আগের কোন ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দেয়া সম্ভব না । এর জন্য দরকার নতুন কোন তত্ত্বের ।

এমনি একটি তত্ত্বের আবির্ভাব হয়েছে যা কিনা আমাদের বিশ্বকে ত্রিমাত্রিক বা চতুর্মাত্রিক ধরার বিপরীতে ১০  মাত্রার বলে কল্পনা করে ।  এই তত্ত্বকে স্ট্রিং তত্ত্ব বলা হয় । সাধারণত আমরা জানি পদার্থের ক্ষুদ্রতম কনাকে পরমাণু বলা হয়,পরমানুতে থাকে ইলেক্কট্রন,নিউট্রন ও প্রোটন । এই তিনটি কনাকে ভাঙলে পাওয়া যায় কোয়ার্ক ,যাকে প্রাথমিক কনা বলা হয় ।  



কিন্তু স্ট্রিং তত্ত্ব বলে কোয়ার্ক গুলো কম্পনশীল স্ট্রিং এর সমন্বয় শক্তির রুপ যেঁগুলোর আকার পরমাণুর কেন্দ্রস্থল নিউক্লিয়াসের চেয়েও লক্ষ গুন ছোট এবং এগুলোই পদার্থের ক্ষুদ্রতম কনিকা ।  স্ট্রিং গুলোর কম্পনের হারের উপড় ভিন্ন ভিন্ন ভরের ইলেক্ত্রন তথা পরমাণু তৈরি হয় । যে বৈশিষ্ট এক পদার্থ থেকে অন্যটিকে আলাদা করে তা মূলত স্ট্রিং এর ঘূর্ণনের পার্থক্যের জন্যই হয়ে থাকে ।  একটি মাত্র স্ট্রিং ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কম্পিত হয় ফলে ভিন্ন ভিন্ন ভর,আধানের পদার্থের সৃষ্টি হয়।   



সাধারণ তত্ত্ব অনুসারে আমরা যেমন মনে করি আমাদের অজস্র গ্রহ, নক্ষত্র, ব্ল্যাকহোল নিয়ে আমরা এক মহাবিশ্বের সদস্য কিন্তু স্ট্রিং তত্ত্ব মতে মহাবিশ্ব একটি নয় বহু । বিগব্যাঙ এর উৎপত্তি এই অনেকগুলো মহাবিশ্বের যোগ সাজেসে । গ্রহ নক্ষত্র আমরা সবাই  কীটপতঙ্গের মত ক্রমবর্ধনশীল  সাবানের ফেনার উপড় ভাসছি । এরকম এক একটি সাবানের ফেনা একটি মহাবিশ্বকে ইঙ্গিত করে । ফেনাগুলো বড় হতে হতে একে অপরের সাথে মিলে আরও বড় ফেনা তৈরি করে আবার  ভেঙ্গে  গিয়ে দুইটি মহাবিশ্বও তৈরি করতে পারে ।  স্ট্রিং তত্ত্ব মতে এইটিই বিগ ব্যাঙ্গ  । বিগ ব্যাঙ্গ হয়ত এই ফেনা গুলোর সমন্বয়ে বা একীভবনে সৃষ্টি হয়েছিল ।  এরকম একটি মহাবিশ্ব থেকে অপর একটি মহাবিশ্বে গমন করতে পারলে আমরা হয়ত আমাদের অতীত অথবা ভবিষ্যতের কোন সময়ে পৌঁছে যেতে পারব । এখন প্রশ্ন হল আমরা কিভাবে এই মহাবিশ্ব ভ্রমন করতে সক্ষম হব ?

তাত্ত্বিক ভাবে এটা সম্ভব হলেও খুব জটিল একটি ব্যাপার , বেশিরভাগ কল্পনা নির্ভর । হাইপোথেটিকাল ফিচার ওয়ার্মহোল , যা কিনা একশ কোটি বছর বা তার বেশি সময়ের মধ্যে কয়েক ফিটের সুরঙ্গের ন্যায় সংযোগ স্থাপন করতে পারে । যার সাহায্যে আমরা ভিন্ন ভিন্ন মহাবিশ্বে ভ্রমন করতে পারব ।

ওয়ার্মহোল সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা পেতে আমরা একটা চারকোণা কাগজের পাতাকে উদাহরন হিসেবে ধরতে পারি , এর দুই প্রান্তে দুইটি বিন্দু এবং তাদের মাঝে নিকটতম দুরুত্বের একটি সরলরেখা কল্পনা করি । ঐ রেখা বরাবর কাগজটিকে ভাজ করলে কাগজের দূরবর্তী দুইটি বিন্দুর মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত পথের তৈরি করবে , ঐ সংক্ষিপ্ত পথটিই ওয়ার্মহোলের রুপক । তাত্ত্বিক ভাবে এটি আপেক্ষিক তত্ত্বের প্রকৃত সমাধান,  স্ট্রিং তত্ত্বের দশটি মাত্রা হলেও বাস্তবে আমরা চারটি মাত্রাকে দেখতে পারি , তাই ধারণা করা হয় বিগ ব্যাঙ্গের পরে যে মহাজাগতিক প্রসারন শুরু হয়েছিল তাতে চারটি মাত্রা স্বাভাবিক ভাবে প্রসারিত হয়েছে , বাকিগুলো কোন অজ্ঞাত কারনে সঙ্কুচিত থেকে গেছে । কোঁকড়ানো অবস্থায় রয়েছে বিধায় সেগুলোকে অদৃশ্য মনে হয় । তবে এটি শুধুই একটি ধারণা এর প্রমানের কাছাকাছিও আমরা পৌছাতে পারি নি । মাত্রাগুলো প্রসারিত হলে আমাদের ,মহাবিশ্ব কেমন হত তা আমাদের কল্পনাতেও আসে না ।  



এখন প্রশ্ন হল এই তত্ত্বটি কতটা বাস্তব সম্মত , আদৌ কি এর সাহায্যে মহাবিশ্ব পরিক্রমন করে অন্য সময়ে পৌঁছানো কোনদিন সম্ভব হবে ? আমরা প্রকৃত পক্ষে এটা জানি না , যদি এই তত্ত্বকে বাস্তবে আনা সম্ভব হয় এবং ওয়ার্মহোলের মধ্যে দিয়ে গমন করা যায় তাহলে অবশ্যই টাইম ট্র্যাভেল করা সম্ভব হবে ।


প্রথমেই ওয়ার্মহোলে গমন করার জন্য কোন মহাকাশযান কে আলোর বেগের সমান বা তার বেশি গতিতে চলতে হবে । প্রযুক্তিগত ভাবে সেটা অসম্ভব । ওয়ার্মহোল তৈরি করতে লাগবে শত শত রকেট এবং  অনেক আলোর প্রতিফলন যা একটি ক্ষুদ্র বিন্দুতে একীভূত হয়ে তৈরি করতে আলোর ঝলকানি । আর কোন মহাকাশজান কে আলোর বেগের কাছাকাছি পৌছাতে বিপুল পরিমান জ্বালানি সমেত মহাকাশে অনেক সময় ধরে পরিক্রমন করতে হবে , আস্তে আস্তে গতি বৃদ্ধি করতে করতে আলোর বেগে পৌছে ঐ ওয়ার্মহোলের বিন্দুতে গমন করতে  হবে ।   

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 

দর্শক সংখ্যা

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ Amitptec6th@gmail.com

সতর্কবার্তা

বিনা অনুমতিতে টেক্সটাইল ম্যানিয়ার - কন্টেন্ট ব্যাবহার করা আইনগত অপরাধ,যেকোন ধরণের কপি পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচারযোগ্য !