স্বাগতম

মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা |পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই!

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

রুক্ষ পৃথিবীতে প্রানের সন্ধানে পলিমার সায়েন্স ( Life Mystery "Polymer")



 টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পলিমার সায়েন্স নামে একটা সাবজেক্ট পাঠ্যসূচিতে থাকে । বেশীরভাগ ছাত্রই বিষয়টাকে গুরুত্বের সাথে নেন না ।পলিমার সায়েন্স এমন একটি বিষয় যা শুধু টেক্সটাইল এর সাথেই যুক্ত না বরং আমাদের জীবনের মূল ভিত্তিই পলিমার । এই পলিমার কে প্রোটিন বলা হয় ।কোটি কোটি বছর ধরে প্রকৃতি এই প্রোটিনের সমবায় ঘটিয়েই রুক্ষ পৃথিবীতে প্রানের সঞ্চার করেছে।পলিমার বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রানের উৎপত্তির মুলে যা আছে তা খুব সাদা মাটা রাসায়নিক পদার্থের পলিমারাইজেশন । তাই জীবনকে বুঝতে হলে এই সাধারণ পদার্থ গুলো সম্বন্ধে জানতে হবে । আর এর জন্য পলিমার সম্পর্কে ধারণা থাকা অপরিহার্য । আসলে জীবন গঠন প্রক্রিয়াকে যতটা জটিল ভাবা হয় আসলে ব্যাপারটা ঠিক তততা জটিল না ।  যুগ যুগের প্রচেষ্টায় পলিমার কিভাবে জীবন সৃষ্টি করল তাই পলিমার সায়েন্সের আলোকে  বিস্তারিত আলোচনা করা হল ।

 
বিজ্ঞানের ভাষায় পৃথিবী শুধুই একটা বিশালাকৃতির পরিক্ষাগার, যেখানে প্রতিনয়ত প্রকৃতির নানান রকম পরীক্ষা নিরিক্ষা  চলছে । প্রায় সারে চারশ কোটি বছর পূর্বে যখন পৃথিবী সৃষ্টি হয় , তখন থেকেই শুরু হয় এই পরিক্ষাগারের কাজ । হাইড্রজেন,অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের মত পৃথিবীর বিভিন্ন উপাদান গুলো একে অপরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে এবং জটিল জটিল যৌগ গঠন করতে থাকে । যুগ যুগ ধরে এই সংযুক্তি প্রক্রিয়া চলতে থাকে । জন্ম দিতে থাকে অনেক রকম যৌগের, একটা সময় এসে এটি জন্ম দিল মহাবিশ্বের সবথেকে আশ্চর্যজনক ও বিস্ময়কর জিনিস যাকে আমরা জীবন বলে থাকি ।তাই জীবনের মূল ভিত্তি পলিমার । এই পলিমার কে প্রোটিন বলা হয় । প্রকৃতি এই প্রোটিনের সমবায় ঘটিয়ে আরও কিছু যৌগ গঠন করল যেমন মিথেন,অ্যামনিয়া, কার্বন ডাই অক্সাইড এভাবেই জীবনের সূত্রপাত ঘটল,কিন্তু এই প্রক্রিয়া থেমে থাকল না অবিরাম  পরিবর্তিত হতে থাকল । অনেক অনেক দিনের  কালের খেয়া পার করে একসময় এই জীবন জন্ম দিল অনন্য সাধারণ প্রজাতি মানুষকে ।



 

জীবন গঠনের মূল উপাদান C,H,N,O,P(S,P)


স্রষ্টার কি বিচিত্র খেলা এরই মধ্যে পলিমার গুলো আরও কিছু রূপে আবির্ভূত হতে শুরু করল যেমন কাঠ,তুলা,সেলুলোজ,শ্বেতসার ইত্যাদি । যা মানুষ্যপ্রজাতির জীবন ধারনের জন্য অত্যাবশ্যক

আরও একটি বিষয় যাকে পৃথিবীতে মানুষের টিকে থাকার অন্যতম প্রেরণা মনে করা হয় তা হল মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি । সেই আদিকাল থেকে আজ অবধি যে প্রবৃত্তিতে তেমন কোন বড় ধরনের পরিবর্তন আসে নি । যেমন সৃষ্টির পর বেঁচে থাকতে মানুষের প্রয়োজন হল বাসস্থানের,লজ্জানিবারনের পোশাক এবং খাদ্যের জন্য শিকারের ধরার হাতিয়ার । এই সমস্ত প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে সে প্রকৃতির তথা পলিমারের সাথে তার সাক্ষ্যতা বাড়ালোসময়ের পরিক্রমনে বিভিন্ন সভ্যতার আসা যাওয়ায় হয়ত মানুষের প্রয়োজন মেটাবার ধরনের পরিবর্তন এসেছে কিন্তু মূল প্রয়োজনের বিষয়বস্তু একই থেকে গেছে । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় প্রথমে মানুষ লজ্জা নিবারন করত পশুর চামড়া নামক প্রোটিন পলিমার দিয়ে আর বর্তমানে সেই একই কাজ করছে পলিএস্টার দিয়ে।
আগেই বলেছি পলিমার রাতারাতি আবিষ্কৃত হয় নি , এর পেছনে রয়েছে কোটি কোটি বছরের সম্মিলিত ক্রিয়াকলাপ । যাকে আরও নতুনত্ব প্রদান করেছে বিজ্ঞানীদের হার না মানা অধ্যবসায়, যার গুনে আমাদের আজকের জীবন পেয়েছে সমৃদ্ধি । বর্তমানে পলিমার বিজ্ঞান এতটাই বিস্তৃতি লাভ করেছে যে বিজ্ঞানিরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পলিমারিক যৌগের সৃষ্টি করছেন যা গননার অযোগ্য ।

এখন প্রশ্ন হল কি করে পলিমার গঠিত হয় ?
এই প্রশ্নের উত্তর জানার আগে আমাদের জানতে হবে পলিমার মানে কি ?
পলিমার শব্দ টি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দের মিলনে “পলি” ও “মার”
“পলি” অর্থ অনেক “মার” অর্থ অংশ । অর্থাৎ পলিমার মানে আমরা বুঝব জটিল দৈত্যাকৃতির আনুবিক ভারী যৌগ যা গঠিত হয়েছে অনেকগুলো হালকা ভরের অনুর সংযোগে যাদের মনোমার নামে অবিহিত করা হয় । যে পদ্ধতিতে মনোমার গুলো একত্রিত হয়ে থাকে তাকে পলিমারাইজেশন বলে । একটা সহজ উদাহরণের দ্বারা ব্যাপারটা কে বোঝানো সম্ভব ধরা যাক শিশুরা মাঠে ঘোরাফেরা করছে , এদের মধ্যে কেউ একা একা ঘুরছে, কেউ কেউ একসাথে গল্প করছে । কিছূক্ষন পরে সেখানে তাদের প্রশিক্ষক উপস্থিত হলেন এবং সবাইকে একে অপরের হাত ধরে সারিবদ্ধ হতে বললেন , যা করতে সবাই অনিচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও কেউ শিক্ষকের কথা অমান্য করতে সাহস পেল না । যথারীতি তারা লাইন হয়ে দাড়াতে থাকল ঠিক এমন সময় লাইনের মাঝ বরাবর একটি ছেলে তাতে ম্মতি জানাল ।এতে লাইন দুটি অংশে ভেঙে গেল কারন ঐ শিশুটির দুই হাত ব্যাতিত একটি লাইন সম্ভব হল না । এই উদাহরন থেকে আমরা বলতে পারি প্রত্যেকটি শিশুকে যদি একেকটি মনোমার ধরা যায় তাহলে তাদের হাতগুলো মনমারের সংযুক্তি বিন্দু ,আর এভাবেই অসংখ্য মনমার সংযুক্ত হলে তাকে পলিমার বলে ।




বাস্তব উদাহরনঃ বিউটাডাইন একটি গ্যাসীয় পদার্থ যার আণবিক ভর ৫৪ । যদি বিউটাডাইনের ৪ হাজার টি অনু একত্রিত করা যায় তাহলে পলিবিউটাডাইন পাওয়া যাবে যা আর গ্যাসীয় অবস্থায় থাকবে না পরিনত হবে একটি সিনথেটিক রাবারে ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 

দর্শক সংখ্যা

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ Amitptec6th@gmail.com

সতর্কবার্তা

বিনা অনুমতিতে টেক্সটাইল ম্যানিয়ার - কন্টেন্ট ব্যাবহার করা আইনগত অপরাধ,যেকোন ধরণের কপি পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচারযোগ্য !