স্বাগতম

মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা |পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই!

শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৫

ফাইবারের শ্রেণীবিন্যাস(Classification of Fibre)

Classification of Fibre
তুলা ও পাট ফাইবার 

প্রকৃতিতে অনেক ধরনের ফাইবার পাওয়া গেলেও সব ফাইবার টেক্সটাইল ফাইবার নয় , কোন ফাইবার কে তখনই টেক্সটাইল ফাইবার বলা যায় যখন তার কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণের স্থিতিস্থাপকতা,দৃঢ়তা ও দৈর্ঘ্য থাকে ।

টেক্সটাইল ফাইবারকে প্রধানত দুইটি শ্রেনিতে ভাগ করা হয় 

১। প্রাকৃতিক ফাইবার
২। ক্রিত্তিম ফাইবার

 যে সমস্ত ফাইবার সরাসরি প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত তাদের প্রাকৃতিক ফাইবার বলে । যেমন তুলা,সিল্ক ও ফ্লেক্স এর মত ফাইবার গুলো, যেগুলো এমনিতেই ফাইবারিয়াস ফর্মে প্রকৃতিতে বিরাজ করে । 
উৎসের ভিন্নতার ভিত্তিতে প্রাকৃতিক ফাইবার কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়

(a) ভেজিটেবল ফাইবার :   বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক সেলুলোজ নির্মিত ফাইবার । এদেরকে ফাইবার ফর্মে আনতে কোন কৃত্তিম প্রক্রিয়াকরণের প্রয়োজন হয় না ।  গাছের বাকল,বীজ ইত্যাদি এই ফাইবারের উৎস ।
ভেজিটেবল ফাইবার আবার তিন প্রকার

সিড ফাইবার : যেসব ফাইবারকে উদ্ভিদবীজের চারপাশের আশ থেকে সংগ্রহ করা হয় তাদের সিড ফাইবার বলে । যেমন তুলা

বাস্ট ফাইবার : যেসব ফাইবার গাছের বাকল থেকে সংগৃহীত ।
সবচেয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরন পাঁট ।

লিফ ফাইবার : পাতা অথবা গাছের গুড়ি থেকে যে ফাইবার পাওয়া যায় তাদের লিফ ফাইবার বলে । যেমন আনারশ,সিজাল ইত্যাদি ।


                                            
(b)এনিম্যাল ফাইবার : ব্যাবহারের দিক দিয়ে প্রাকৃতিক ফাইবারের মধ্যে এটি দ্বিতীয় অবস্থানে । এনিম্যাল ফাইবারের মধ্যে রয়েছে উল ও অন্যান্য আঁশ সমৃদ্ধ প্রোটিন ফাইবার । বেশীরভাগ প্রাণীজ প্রোটিন নির্মিত অর্থাৎ  যেসব ফাইবারে প্রোটিন মূল গাঠনিক একক হিসেবে কাজ করে ।

উল : উল ফাইবারের উৎস ভেড়া জাতীয় লোমবিশিস্ট পশু ।

সিল্ক : সিল্ক কীটপতঙ্গ থেকে প্রাপ্ত ফাইবার । রেশম গুটি থেকে সিল্ক পাওয়া যায় ।
সিল্ক প্রাকৃতিতেই ফিলামেন্টের আকারে থাকে এবং একে পরে স্পিন করা হয় ।

(c) মিনারেল ফাইবার : বিশেষ কিছু প্রয়োজনে ব্যাবহারের জন্য বিভিন্ন খনিজ আকরিক থেকে মিনারেল ফাইবারের সৃষ্টি।  যেমন এসবেস্টস ফাইবার ।


২। ক্রিত্তিম ফাইবার  : যে ফাইবার সরাসরি প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত নয় অথবা সম্পূর্ণরুপে পরীক্ষাগারে নির্মিত তাদের ক্রিত্তিম ফাইবার বলে ।
ক্রিত্তিম ফাইবার দুই প্রকারের হতে পারে 

(a)প্রাকৃতিক পলিমার বা সেলুলোজিক বা রিজেনেরেটেড পলিমার : যে সমস্ত ক্রিত্তিম ফাইবার তৈরিতে মুল উপাদান প্রকৃতি থেকে নেয়া হয় তাদের রিজেনেরেটেড ফাইবার বলে 

উদ্ভিদজগৎ সেলুলোজের অফুরন্ত উৎস । যার অংশবিশেষ আমরা তুলা , পাঁটের মত ফাইবার হিসেবে পেয়ে থাকি যেখানে সেলুলোজ প্রকৃতিতেই ফাইবারের অবয়বে বিরাজ করে ।
কিন্তু বেশীরভাগ সেলুলোজকে সরাসরি ফাইবার হিসেবে পাওয়া যায় না যেমন উদ্ভিদের কান্ত বাকল ও পাতার মধ্যেও সেলুলোজ থাকে । এতে সেলুলোজ ফাইবার ফর্মে থাকলেও তা অন্য বিভিন্ন পদার্থে পূর্ণ থাকে ।

বিগত শতাব্দীর মধ্যভাগে মানুষ এসব প্রাকৃতিক  সেলুলোজকেও ফাইবারে পরিনত করতে সক্ষম হয় । যেমন কৃত্তিম সিল্ক । প্রকৃতি যেখানে সেলুলোজকে ফাইবার ফর্ম দানে ব্যার্থ  তখন এগুলোকে ফাইবার তৈরির কাঁচামাল হিসেবে গ্রহন করা হয় । 

একইভাবে এনিম্যল প্রোটিন কে ফাইবার তৈরির উৎস হিসেবে ব্যাবহার করা হয় । প্রাণীর দেহে প্রোটিন  গাঠনিক একক এবং একে ক্রিত্তিম ভাবে ফাইবারের ফর্ম দেয়া সম্ভব ।

রিজেনেরেটেড ফাইবার তিন প্রকারের

ভিসকস রেয়ন

এসিটেড

এবং ট্রাই এসিটেড

(b) সিনথেটিক পলিমার বা নন সেলুলোজিক : সে সব ফাইবার সম্পূর্ণরুপে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার দ্বারাই তৈরি করা হয়, যাতে প্রকৃতির কোন সম্পৃক্ততা থাকে না তাদের সিনথেটিক ফাইবার বলে ।

   পূর্বের সেলুলোজের স্থলে এখানে থাকে কার্বন,হাইড্রজেনের মত জৈব মৌল ।


নাইলন ফাইবার
আরও কিছু সিনথেটিক ফাইবার রয়েছে যেমন
রাবার : প্রাকৃতিক বা ক্রিত্তিম রাবার কে সংকুচিত করে ফাইবার ফর্মে আনা হয় ।

টালিক ফাইবার : মেটাল, মেটাল কোটেড প্ল্যাস্টিক বা মেটাল আবৃত ফাইবার সমতল,পিচ্ছিল ও ঝকঝকে ।

মিনারেল : ক্রিত্তিম ভাবে তৈরি যে সকল ফাইবারের সারাংশ খনিজ বা আকরিক থেকে প্রাপ্ত তাদেরকে মিনারেল ফাইবার বলে , যেমন গ্লাস,সিরামিক,গ্রাফাইট ফাইবার ইত্যাদি ।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 

দর্শক সংখ্যা

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ Amitptec6th@gmail.com

সতর্কবার্তা

বিনা অনুমতিতে টেক্সটাইল ম্যানিয়ার - কন্টেন্ট ব্যাবহার করা আইনগত অপরাধ,যেকোন ধরণের কপি পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচারযোগ্য !