স্বাগতম

মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা |পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই!

রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪

নাইলন ফাইবারের গঠন ও ইতিহাস(Nylon Structure & History)



ফেডেরাল ট্রেড কমিশনের সংজ্ঞা অনুযায়ী
"নাইলন রাসায়নিকভাবে পলিঅ্যামাইড প্রকরণের ফাইবার। অ্যামাইডের রাসায়নিক সংকেত (-CO-NH-) এর পলিমারাইজেশন করে পলি অ্যামাইড গঠিত হয়, যাকে নাইলন বলে পলি অ্যামাইডের লম্বা চেইন একটি সিনথেটিক পলিমার যার মধ্যে কমপক্ষে ৮৫% অ্যামাইড লিংকেজ সরাসরি দুটি অ্যারোমেটিক রিং দ্বারা যুক্ত থাকে ।"  


গাঠনিক প্রকৃতিতে নাইল একটি সরল রেখাকৃতির পলিমার । নাইলন ৬.৬ পলিমার একটি রৈখিক জিগজাগ আকৃতির কার্বন অনু থাকে । কার্বন তার চারটি যোজনী দ্বারা চারটি সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ থাকে এবং ত্রিমাত্রিক পিরামিডি আকৃতি ধারণ করে ।


বিশেষ ধরণের পিরামিড আকৃতিকে টেট্রাহেড্রোন বলে। টেট্রাহেড্রোন বিন্যাসের কারনেই কার্বন অনু জিগজাগ আকৃতির ব্যাতিক্রমী সরল রেখাকার পলিমার গঠন লাভ করে । একই কারনে নাইলন উচ্চ স্থিতিস্থাপক ফাইবার।


নাইলন বেশ শক্তিশালী,স্থিতিস্থাপকউজ্জলএতে যেকোন রঙ প্রয়োগ করা যায়,খুব বেশি পানি ধারণ করে না,ওজোনে হালকা কিন্তু শরীরের তাপ ধারণ করতে সক্ষম 


নাইলন তৈরির কাঁচামাল মূলত দুটি
১)হেক্সামিথিলিন ডাই অ্যামিন ও
২)এডিপিক এসিড


ঘনীভবন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এই দুই যৌগের মধ্যে পলিমারাইজেশন শুরু হয় । যতক্ষণ না এরা একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে বিশালাকারের অনু সৃষ্টি করবে ততক্ষন বিক্রিয়া সংগঠিত হতে থাকে।এভাবে প্রাপ্ত নাইলনের  লবনটিতে এসিড ও ক্ষারের অনুপাত হয় ১:১ । পুনরায় এই লবণকে নাইট্রেশন করা হয় এবং শুকানো হয় ।তবে এই গলিত পলিমার থেকে নাইলন ফাইবার পেতে তাকে স্পিনিং,ড্রইং ও টেক্সারিং ধাপগুলো পার করতে হবে ।

বিক্রিয়া,নাইলন ৬.৬ তৈরির
নাইলন ৬.৬ তৈরির বিক্রিয়া

এডিপিক এসিড :- এডিপিক একটি অরগ্যানিক এসিড, শিল্পে একটি অতীভ প্রয়োজনীয় ডি কার্বোক্সিলিক এসিড।  ডি কার্বোক্সিলিক এসিড বলতে বোঝায় এমন যৌগ যার কার্বন অনুর উভয় পাশে কার্বোক্সিল মূলক বিদ্যমান থাকে। বিভিন্ন কাজে বছরে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন কেজি এডিপিক এসিডের পাউডার উৎপাদন করা হয়ে থাকে, যার বেশিরভাগ নাইলন ফাইবার তৈরির কাজে ব্যাবহৃত হয় ।


হেক্সামিথিলিন ডাই অ্যামিন :- অরগ্যানিক ডাই অ্যামিনে কার্বন অনুর দু পাশে অ্যামিন মূলক থাকে ।ডিউ পন্ট কোম্পানীর রসায়নবিদ ডঃ এইচ কারোথারস নাইলনের আবিষ্কারক ।

১৯২৮ সাল থেকে গবেষণা শুরু করে দীর্ঘ ৮ বছরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৯৩৫ সালে নাইলন ৬.৬ পলিমার তৈরিতে সক্ষম হন। এ পলিমার মিশ্রিত রাসায়নিক পদার্থের প্রতিটি অনুতে ৬টি কার্বনের পরমানু থাকে বলে এ নাইলনকে ৬.৬  নামকরন করা হয়েছিলএকসময় হোসীয়ারী ইয়ার্ন হিসাবে নাইলনের তৈরি পোশাকের কদর বেড়ে যায় ।


পরবর্তীতে ডিউ পন্ট কোম্পানী থেকে নাইলনের পেটেন্ট বিক্রীর পর বিভিন্ন কোম্পানী আরও গুণগত ভিন্ন প্রকারের নাইলন তৈরি করে । রাসায়নিকভাবে সবগুলো এক প্রকারের যৌগ থেকে উৎপন্ন হলেও অনুর গঠনে সামান্য পার্থক্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তৈরিতে সহায়তা করে



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 

দর্শক সংখ্যা

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ Amitptec6th@gmail.com

সতর্কবার্তা

বিনা অনুমতিতে টেক্সটাইল ম্যানিয়ার - কন্টেন্ট ব্যাবহার করা আইনগত অপরাধ,যেকোন ধরণের কপি পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচারযোগ্য !